About Sadak Kabi Jagadram Roy


অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে আনুমানিক ১৭২৫ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন পঞ্চকোট রাজ্যের শিখরভূম এলাকার মহিয়াড়া পরগনার অন্তর্গত ভুলুই গ্রামে মহাসাধক কবি জগদ্রাম রায় জন্মগ্রহণ করেন যেটি বর্তমানে বাঁকুড়া জেলার মেজিয়া থানার অন্তর্গত। তাঁর পিতামহ শ্রীরাম রায়, পিতার নাম রঘুনাথ রায়। জগদ্রাম রায়ের পারিবারিক পদবি বন্দ্যোপাধ্যায়তাঁর পূর্বপুরুষেরা কাশীপুর রাজার কাছ থেকে ভুলুই গ্রামে বসবাসের জন্য ভূমি ও উপাধি দুইই পেয়েছিলেন। মধ্যযুগের অনেক কবির মতো কবিত্বশক্তি ও আধ্যাত্মিকতার সমন্বয় লক্ষিত হয় সাধক কবি জগদ্রামের মধ্যে। তাই বাঁকুড়া জেলার প্রত্যন্ত এক গ্রামে জন্ম নিলেও তাঁর প্রতিভার স্পর্শলাভ থেকে বাঙালি বঞ্চিত থাকেনি। অদ্ভুত রামায়ণ, দুর্গাপঞ্চরাত্রি ও আত্মবোধ প্রভৃতি গ্রন্থ কবি জগদ্রামের নামে প্রচলিত। সংস্কৃত অদ্ভুত রামায়ণকে অবলম্বন করে তিনি মূলত তাঁর রামায়ণটি রচনা করেছিলেন। তবে এই গ্রন্থের লঙ্কাকাণ্ড ও উত্তরাকাণ্ড রচনা করেন কবির সুযোগ্য পুত্র রামপ্রসাদ। অনুমান করা হয় কবি জগদ্রাম রায় ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে তাঁর ‘শ্রী অদ্ভুত রামায়ণ’ রচনা করেন। তবে এটি জগদ্রামী রামায়ণ নামেও পরিচিত। সাধারণত অন্যান্য রামায়ণ সপ্তকাণ্ডে সম্পূর্ণ হলেও জগদ্রামী রামায়ণের বিশেষত্ব হল এটি অষ্টকাণ্ড সমন্বিত কৃত্তিবাসী রামায়ণের মতো অতখানি জনপ্রিয়তা লাভ না করলেও কিছু কিছু অঞ্চলে এই গ্রন্থখানি খুব সমাদৃত হয়েছিল। দুর্গামাতার একনিষ্ঠ সাধক জগদ্রাম ভুলুই গ্রামে অষ্টনায়িকা বেষ্টিত দুর্গামূর্তির পরিকল্পনা করেন। ‘দুর্গাপঞ্চরাত্রি’ গ্রন্থে ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত রামচন্দ্রের দুর্গাপূজার যথাযথ বর্ণনা পাওয়া যায়। পাঁচটি পালায় গ্রন্থটি বিভক্ত। প্রথম তিনটি জগদ্রামের ও শেষ দুটি পালা তাঁর পুত্রের লেখা। দুর্গাপূজার মাধ্যমে রামচন্দ্রের রাবণবধ ও সীতা উদ্ধারের ঘটনা এখানে বর্ণিত হয়েছে। এই সিদ্ধ সাধকের আধ্যাত্মিক চিন্তার উজ্জ্বল নিদর্শন পাওয়া যায় ‘আত্মবোধ’ গ্রন্থে। তাঁর অনাড়ম্বর জীবনের মতোই তাঁর ভাষা ও ছন্দের ব্যবহারেও এক অতুলনীয় সারল্যের সঙ্গে দক্ষতার মিশ্রণ অনুভূত হয়। সংসারী হয়েও জাগতিক মোহ-মায়ার উর্ধ্বলোকে, ঈশ্বরের প্রতি ঐকান্তিক প্রেমে এই দিব্যসাধক পুরুষ যেভাবে বিচরণ করতেন, তাঁর সেই জীবনাচরণ এবং তাঁর সৃষ্টি তাঁকে বাঙালির স্মৃতিতে ভাস্বর করে রাখার অন্যতম কারণ।

                ২০১৩ খ্রিস্টাব্দের ২৫ সেপ্টেম্বর মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের মহাবিদ্যালয়ের শিলান্যাস করেন এবং ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে মহাবিদ্যালয়ের পঠনপাঠন শুরু হয়। তখন মহাবিদ্যালয়ের নাম ছিল গভর্ণমেণ্ট জেনারেল ডিগ্রি কলেজ অ্যাট মেজিয়া (গোপালপুর)। পরবর্তীকালে এলাকার মানুষের জগদ্রাম কেন্দ্রিক আবেগকে সম্মান জানিয়ে ও কবি জগদ্রামের স্মৃতি রক্ষার্থে ২৫ মে ২০১৭ থেকে মহাবিদ্যালয়ের নামকরণ হয় কবি জগদ্রাম রায় গভর্ণমেণ্ট জেনারেল ডিগ্রি কলেজ।